ছবি: জৈন্তা বার্তা
গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের চৌমুহনী এলাকায় যত্রতত্র সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন এ যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসী, পথচারী, বিভিন্ন মার্কেটে আগত ক্রেতাসহ ব্যবসায়ীরা। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নেতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর শহরে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড থাকলেও অধিকাংশ চালক তা ব্যবহার না করে চৌমুহনীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও বিভিন্ন মার্কেটের সামনে যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করান। এতে একদিকে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলেও মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ও সিলেটগামী লোকাল বাসগুলোও রাস্তা বন্ধ করে মূল সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে ওয়াহাব প্লাজা, আল-মারওয়া শপিং সেন্টার, কুশিয়ারা মার্কেট, মসজিদ মার্কেট, ঢাকাদক্ষিণ রোড পয়েন্ট, মার্ভেলাস টাওয়ার, নূর ম্যানশন ও আল-হাসানা মার্কেটের সামনে সারিবদ্ধভাবে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় ক্রেতাদের স্বাভাবিকভাবে মার্কেটে প্রবেশ করতেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন মার্কেটের সামনে যত্রতত্র গাড়ি ও অটোরিকশা রাখা হলেও বারবার অনুরোধ করার পরও চালকরা তা মানছেন না। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশের নজরে এলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।
গোলাপগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিলাল আহমদ বলেন, ‘যত্রতত্র সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় বাজারে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। অনেক চালক কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা মানেন না। বিভিন্ন মার্কেটের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা বারবার অনুরোধ করলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। গোলাপগঞ্জ পৌর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি, যাতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।’
গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা হয়েছে এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোলাপগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবু নাঈম সিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




