ছবি:সংগৃহীত
সিলেট নগরীর পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এ সভায় সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন ও মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে সরকার মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।’
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিলেট’-এর স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। তিনি জানান, সম্প্রসারিত এলাকাসহ পুরো সিলেট নগরীকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব নগরীতে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে সিলেট নগরীতে জলাবদ্ধতা না হওয়ার পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আরও বলেন, ‘মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে সড়ক, ড্রেনেজ, জলাশয় সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। আমরা শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি টেকসই ও বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তুলতে চাই।’
সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান জগলুল, মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান রিষি, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, নগর পরিকল্পনাবিদ তানভীর আহমদ মোল্লাসহ সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




