সংগৃহিত
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে ৫ বন্ধু মিলে ঘুরতে আসেন সিলেটে। সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন এবং পরবর্তীতে তারা সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরেন। পাঁচ বন্ধুর মধ্যে সিলেট থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব)।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় সাইফুলসহ মোট ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে কিশোরগঞ্জ থেকে পাঁচ বন্ধু কুলিয়ারচর উপজেলার ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং গোবরিয়া আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মুন্সীবাড়ি নিবাসী মৃত সামিউদ্দিনের বড় ছেলে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব), কুলিয়ারচর পৌরসভার ধন মিয়ার ছেলে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লতিফ, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফাখরুল ইসলাম ফারুক এবং রানা মিয়া ও জমরেদ মিয়া ঘুরতে আসেন সিলেটে। পরদিন মাজার জিয়ারত শেষে সাদাপাথরসহ সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখেন তারা।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব) আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় বৃহস্পতিবার রাতেই তারা দ্রুত বাড়ি ফিরার প্রস্তুতি নেন। প্রথমে ট্রেনে করে ফিরার প্রস্তুতি নিলেও পরে তারা বাসে যাওয়ার সিন্ধান্ত নেন। ৫ বন্ধুর মধ্যে রানা ও জমরেদ তারা বিমানে করে চলে যান। শাহপরান (রহ.) মাজার গেইট এলাকা থেকে ৩ বন্ধু সকালের ইউনিক বাসের টিকেট কাটেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব), ফাখরুল ইসলাম ফারুক ও মো.লতিফ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ইউনিক পরিবহনের বাসে করে সিলেটের হুমায়ুন চত্তর থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তারা তিন জন।
বিষয়টি জানিয়েছেন নিহত মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব) বন্ধু মো. লতিফ। তিনি বলেন, বাসে তারা তিন বন্ধু ছাড়াও প্রায় ৩৬ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। বাসটি টিকটাক মতোই চলছিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান যাত্রীরা। পরে দেখেন বাসটি রাস্তা থেকে জমিতে পড়ে গেছে। তার বন্ধু সাইফুলের কপালের বেশ অংশ কেটে গেছে। এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাইফুল। এই দুর্ঘটনায় তার আরেক বন্ধু ফাখরুল ইসলাম ফারুখ গুরুতর আহত হন। তবে এই দুর্ঘটনায় মো. লতিফও আহত হয়েছেন বলে জানান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরের দিকে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে বন্ধু মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব) লাশ গ্রহণ করতে এসে দুর্ঘটনার এমন বর্ণনা দেন তিনি। খবর পেয়ে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব) ভাই মাহাজারুল ইসলামও থানায় আসেন। আইনিপ্রক্রিয়া শেষে তাদের হাতে নিহত সাইফুলের লাশ তুলে দেন পুলিশ। নিহত মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব) কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং গোবরিয়া আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মুন্সীবাড়ি নিবাসী মৃত সামিউদ্দিনের বড় ছেলে ঠিকাদার।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বারি মিয়ার পুত্র আবুল হোসেন (৪৬), কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের গ্রামের কালু মিয়ার মেয়ে সঙ্গীত শিল্পী পেহেলি ভৈরবী (১৯), কুমিল্লার লাকসাম থানার রফিকুল ইসলামের পুত্র আরমান হোসেন রাহিম (১৯)। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের কন্যা জাইফা ইসলাম (৩) এবং সিলেট মহানগরীর সোবহানিঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২)-কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া বাকি তিন জনের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় সনাক্তকরণের কাজ করছে পিবিআই।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




