শাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতার তৎপরতায় অ*পহ*রণচেষ্টা নস্যাৎ
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৯ AM

উ*দ্ধার যুবক; আ*টক ২

শাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতার তৎপরতায় অ*পহ*রণচেষ্টা নস্যাৎ

ইমরান হোসেন রানা, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৮/২০২৬ ০৪:৩৪:২২ AM

শাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতার তৎপরতায় অ*পহ*রণচেষ্টা নস্যাৎ

সংগৃহিত


সিলেটের টুকের বাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এক যুবককে নিয়ে যাওয়ার সময় অপহরণের চেষ্টা নস্যাৎ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের এক নেতা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে টুকের বাজার যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধারকারী শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক জানান, রাত ৮টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে এক যুবকের চিৎকার শুনতে পান। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে ওই যুবককে অটোরিকশার বাইরে শরীরের অর্ধেক বের করে ‘ভাই, আমাকে বাঁচান’ বলে চিৎকার করতে দেখেন। এতে তাঁর সন্দেহ হয়।

পরে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে অটোরিকশাটির পিছু নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড হয়ে তেমুখী এলাকায় গিয়ে অটোরিকশাটিকে দেখতে না পেয়ে ফিরে আসার কথা ভাবছিলেন। এ সময় পেছন থেকে এক মোটরসাইকেল আরোহী তাকে অটোরিকশাটি ধরতে দ্রুত এগিয়ে যেতে বলেন। পরে তেমুখীর ঢালু পার হয়ে টুকের বাজারের দিকে যাওয়ার সময় তিনি অটোরিকশাটিকে দেখতে পান।

আশিক জানান, অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও চালক সেটি না থামিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে তিনি মোটরসাইকেল দিয়ে অটোরিকশাটির সামনে গিয়ে রাস্তা আটকে দেন। এ সময় আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল সেখানে এসে থামে।

অটোরিকশা থামার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের একজনকে আটক করা হয়। পরে অটোরিকশার চালকসহ অপর ব্যক্তিকেও আটক করা হয়।

ঘটনাস্থলে শাবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক শামসুদ্দিনও উপস্থিত হন। আশিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ওই যুবকের চিৎকার শুনে মোটরসাইকেল নিয়ে অটোরিকশাটির পিছু নিয়েছিলেন।

আশিক বলেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আটক ব্যক্তিদের নিজেদের জিম্মায় নিয়ে এলাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা বলছিলেন। তবে তিনি তাদের পরিচয় ও দায়িত্ব নেওয়ার কারণ জানতে চান। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া যুবকের সঙ্গে কথা বলে আশিক জানতে পারেন, তিনি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তার সঙ্গে কথা বলার কথা বলে বাইরে ডেকে নেন। পরে চায়ের দোকানে যাওয়ার কথা বলে তাকে সিএনজিতে উঠতে বলা হয়। তিনি আপত্তি জানালে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে সুযোগ পেয়ে অটোরিকশা থেকে শরীরের কিছু অংশ বাইরে বের করে চিৎকার শুরু করেন।

আশিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বাসস্ট্যান্ড ও মদিনা মার্কেটের মতো জনবহুল এলাকা পার হয়ে অটোরিকশাটি টুকের বাজারের দিকে যাচ্ছিল। সেখানে বিষয়টি কেউ বুঝতে না পারলে আরও দূরে নিয়ে যাওয়ার পর যুবককে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে যেতে পারত।

পরে জালালাবাদ থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়। উদ্ধার হওয়া যুবক ও অটোরিকশার চালককেও থানায় নেওয়া হয়।

জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা দুইজনকে আটক করে অপহরণ মামলা দিয়েছি। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।’

শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক বলেন, ‘আমি তখন শুধু চিন্তা করেছি, ছেলেটা আমাদের কোনো ভাই-বোন বা পরিচিত কেউ হতে পারত। অপরিচিত মানুষ বিপদে পড়লেও আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। আমি যদি তখন অটোরিকশাটির পিছু না নিতাম, তাহলে ছেলেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো কি না জানি না।’

রাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলাচলের সময় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে নির্জন এলাকায় এবং রাতে যাতায়াতের সময় চালক ও আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ