মাধবপুরে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বি'রুদ্ধে জমি দ'খলের অ'ভিযোগ
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০২ PM

মাধবপুরে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বি'রুদ্ধে জমি দ'খলের অ'ভিযোগ

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৮/২০২৬ ০১:৫৭:১৭ PM

মাধবপুরে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বি'রুদ্ধে জমি দ'খলের অ'ভিযোগ


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকুন্ঠপুর চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের ওয়ারিশান সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জমিতে চা গাছও রোপণ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়ার দাবি, ওয়ারিশান সূত্রে পাওয়া ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের রায়ে তিনি ডিক্রি পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার নামে জমিটি নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি নিজের জমিতে প্রবেশ করতে গেলে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের পূর্ব চারাভাঙ্গা গ্রামে বৈকুন্ঠপুর চা-বাগানের পাশের এলাকায়।

সেলিম মিয়া জানান, জমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। একই সঙ্গে জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় আবেদন করেছেন। তবে এখনো তিনি কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের দখলে রয়েছে। তবে জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের রায়ের পর নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, সেলিম মিয়া জমিতে প্রবেশ করতে গেলে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ উল্টো তাকে বিবাদী করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলে জানা গেছে।

বৈকুন্ঠপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, উক্ত জমি ১৯৫০ সাল থেকে চা-বাগানের দখলে রয়েছে এবং এটি আমাদের মালিকানাধীন। সেলিম মিয়া যে ডিক্রি পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের হয়রানি করছেন।

তবে জমিটির মালিকানা দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, আমি একজন হতদরিদ্র কৃষক। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমার জমির মালিকানা পেয়েছি। কিন্তু এখন চা-বাগান কর্তৃপক্ষ আমাকে নিজের জমিতে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমি প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, চা-বাগান ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়, এর মালিক জেলা প্রশাসন। দ্রুত এ বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

জমির মালিকানা নিয়ে দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবিতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত আইনগতভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জৈন্তাবার্তা/আরআর