নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত দাম, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৪ PM

নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত দাম, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৮/২০২৬ ০২:৫৬:১৭ PM

নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত দাম, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

ছবি নিজস্ব


সম্প্রতি দেশজুড়ে অসময়ের বৃষ্টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দাম বেড়েছে সবজির। আলু, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচসহ প্রতিটি সবজির দামই এখন বেশি। সবজির পাশাপাশি বেড়েছে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও। এতে বিপাকে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল ভ্যানচালক ও রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ।

এদিকে, মৌসুমি বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি জগন্নাথপুরে সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে জগন্নাথপুরে কাঁচাবাজারে সবজির দামসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। কঠিন হয়ে যাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো।

সোমবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে গেছে, গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, শিম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গার দাম এখন ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ছিল ৪০ টাকা। করলা ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা এবং লাউ ৪০ টাকার জায়গায় ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর দাম কম হলেও শসা ৮০ টাকা ও গাঁজর ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে কাঁচা কলা প্রতি হালি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে মানভেদে প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং প্রতিটি চাল কুমড়ার দাম প্রায় ৫০ টাকা।

মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দামে সামান্য ওঠানামা দেখা গেছে। রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, শিং, পাবদা, টেংরা, পাঙাশ, কৈ, সিলভার কার্প ও চিংড়ি আকার ও মানভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকা থেকে ৪৭০ টাকা, ২০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় এবং তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

এদিকে, মুরগির বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। গরু ও খাসির মাংসের দামও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা থেকে ৩৭০ টাকায় এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায়।

রিকশাচালক রাকিব, ফিরোজ, শহীদ, মোবারক ও মিজানসহ কয়েকজন বলেন, একাই আয় করি। বৃষ্টির দিনে ৩০০-৪০০ টাকার বেশি আয় হয় না। মানুষ কম বের হয়, তাই ভাড়াও কম। এ অবস্থায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতা সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতিদিনই বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যে টাকা নিয়ে বাজারে আসি, তাতে প্রয়োজনীয় সবজি কেনাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো এখন খুব কষ্টের। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জগন্নাথপুর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সেলিম, মকলিছ, দেলোয়ার ও মজুমদারসহ অনেকে বলেন, বর্ষাকাল হওয়ার পরেও মাছের দাম কমেনি। পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকানে দামের পার্থক্য ৫ থেকে ২০ টাকা। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ বাড়লে সবজি ও মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে স্বস্তি ফেরার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

জগন্নাথপুর বাজারের নদীরপাড় রোডের তাজউল্লাহ সবজি ভাণ্ডারের পরিচালক সেলন ভাণ্ডারী বলেন, ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি বাজারে আসছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে, সেই প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা বৃষ্টি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বাজার পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।

জৈন্তাবার্তা/আরআর