ছবি:সংগৃহীত
সংস্কৃতিচর্চায় সিলেট সবসময়ই অগ্রগণ্য বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর এবং পরবর্তী সময়েও সংস্কৃতি চর্চায় সিলেট তার অগ্রণী ভূমিকা ধরে রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সিলেটের ৫১ বছরের প্রাচীন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান চলন্তিকা প্রিন্টার্সের নবরূপে নতুন ভবনে স্থানান্তর উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘সিলেটের সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চার রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এই অঞ্চলের অনেক গুণী ব্যক্তি দেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। সেই ঐতিহ্য ধারণ করে বর্তমান প্রজন্মও সংস্কৃতিচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে-এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক’। তিনি বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৯ সালে সিলেট সফর করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও দুইবার সিলেটে এসেছেন। তাঁদের দুজনেরই সিংহবাড়িতে অবস্থানের স্মৃতি রয়েছে। ফলে তাঁদের স্মৃতির সঙ্গে সিলেটের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেটের সংস্কৃতি অঙ্গনে সিংহবাড়ির যেমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তেমনি শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশে দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে চলন্তিকা প্রিন্টার্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান শুধু বই, পত্রিকা কিংবা বিভিন্ন প্রকাশনা ছাপার কাজই করে না; এর মাধ্যমে একটি অঞ্চলের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসও সংরক্ষিত হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘চলন্তিকা প্রিন্টার্সের দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে সিলেটের শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। নতুন ভবনে নবরূপে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং ভবিষ্যতে সিলেটের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চলন্তিকা প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন। তিনি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চলন্তিকা প্রিন্টার্সের দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের কথা তুলে ধরেন এবং প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকার জন্য শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর অরুণ চন্দ্র পাল এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। এ সময় সিলেটের সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সঞ্জয় নাথ সঞ্জু।
এর আগে অতিথিরা ফিতা কেটে ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে নবরূপে নতুন ভবনে চলন্তিকা প্রিন্টার্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




