মিয়ানমারে মঠে সামরিক বিমান হামলায় নি হ ত ১৪
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ PM

মিয়ানমারে মঠে সামরিক বিমান হামলায় নি হ ত ১৪

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩/০৮/২০২৬ ০৪:০৮:২১ PM

মিয়ানমারে মঠে সামরিক বিমান হামলায় নি হ ত ১৪

সংগৃহিত


মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলে একটি বৌদ্ধ মঠে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বয়স্ক ব্যক্তি বলে স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও বিদ্রোহীদের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি বার্মিজ ও বার্তা সংস্থা এএফপি।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে মিয়াউং টাউনশিপের একটি মঠে এ হামলা চালানো হয়। এলাকাটি মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।

স্থানীয় এক উদ্ধারকর্মী বিবিসি বার্মিজকে জানান, হামলায় নিহত সবাই বয়স্ক ছিলেন। কয়েকজন বৌদ্ধ ভিক্ষুও আহত হয়েছেন। মঠটিতে দুই দফায় হামলা চালানো হয় বলেও জানান তিনি।

বৌদ্ধদের বর্ষাবাস বা বুদ্ধিস্ট লেন্ট উপলক্ষে ওই স্থানে একটি ধ্যান অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্থানীয় বেসামরিক লোকজন জড়ো হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। হামলার সময় সেখানে থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই ধ্যানরত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহী নওয়ে উ মিয়াউং এএফপিকে বলেন, নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বাকি নয়জন পাশের একটি টাউনশিপের বাসিন্দা।

তিনি জানান, নিহতদের বয়স আনুমানিক ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। হামলার সময় বয়স্ক লোকজন ধ্যানকেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।

আরেকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিরোধী যোদ্ধা জানান, হামলার পর তিনি অন্যদের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছিলেন। সে সময় দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলাম, তখন বিমানটি আবার বোমা ফেলতে আসে।’

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এখনো হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির সেনাবাহিনী এর আগে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা কেবল বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। এরপর দেশটিতে সামরিক শাসন জারি রয়েছে।

সামরিক বাহিনী প্রায়ই বেসামরিক স্থাপনা ও জনবসতিতে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগের মুখে পড়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনী ও জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা