ছবি:সংগৃহীত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, সাম্য, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’ উদযাপন করেছে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কলেজ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, আবৃত্তি, নাটক, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সাহিত্য প্রতিযোগিতা ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নজরুল একাডেমি সিলেটের অধ্যক্ষ ও নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ সিলেট বিভাগের সভাপতি হিমাংশু বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ও সিনিয়র প্রভাষক রণজিৎ পুরকায়স্থ। নজরুল চর্চার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রভাষক মীর হোসাইন সরকার ও উপাধ্যক্ষ নাহিদা খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হিমাংশু বিশ্বাস বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। তাঁর সৃষ্টিকর্মে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাম্য ও বিদ্রোহের পাশাপাশি প্রেম, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার গভীর প্রকাশ ঘটেছে। নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত করিয়ে তাঁর অমলিন চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, নজরুল কেবল পাঠ্যপুস্তকের বিষয় নন; তাঁর আদর্শ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনকে আলোকিত করার শক্তি রাখে। নজরুল মানেই তারুণ্যের সাহস, মানবতার কণ্ঠ ও সাম্যের প্রেরণা। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জাতীয় কবিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’ উদযাপনের উদ্যোগের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নজরুলের কবিতা আবৃত্তি, কালজয়ী গান পরিবেশন এবং কবির জীবন ও সাম্যবাদী দর্শনের ওপর ভিত্তি করে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রধান অতিথি হিমাংশু বিশ্বাসের খালি গলায় পরিবেশিত কয়েকটি রাগপ্রধান নজরুলসংগীত। তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ হন।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন কলেজের প্রভাষক তোফায়েল আহমেদ শিহাব ও তমালিকা তালুকদার।
পরে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক আদর্শ ও সাম্যের চেতনা ধারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের সমাপ্তি হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




