সংগৃহীত
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মে মাসে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে মানুষের হাতে চলে যাওয়া বিপুল নগদ অর্থের একটি অংশ ধীরে ধীরে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরছে। জুনের পর জুলাইয়েও মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ কমেছে। এক মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ কমেছে ৭ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। এর আগে জুনে কমেছিল প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ কমেছে মোট ২০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। এদিকে নগদ অর্থ ফেরার পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানতও বাড়ছে। এ সময়ে ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদকে ঘিরে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়া মূলত সাময়িক ও মৌসুমি প্রবণতা। তবে ঈদ শেষ হওয়ার পর সেই অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসায় পরবর্তী মাসে নগদ অর্থ কমে আসে। কোরবানির ঈদের ক্ষেত্রে পশু কেনাবেচা, হাটের লেনদেন, কসাই ও শ্রমিকের পারিশ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন হওয়ায় মে মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। ঈদপরবর্তী সময়ে এসব লেনদেনের চাপ কমে যাওয়ায় হাতে থাকা অতিরিক্ত নগদের একটি অংশ ব্যাংকে জমা পড়ছে। এর সঙ্গে নিয়মিত বেতন-ভাতা ও ব্যবসায়িক লেনদেন ব্যাংক ও ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এবং নগদ অর্থ ধরে রাখার প্রয়োজন কমে আসাও ব্যাংকের বাইরে নগদ কমার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই শেষে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। জুন শেষে এ অর্থের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। ফলে এক মাসে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ কমেছে ৭ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা— ২ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের মাস জুনে মানুষের হাতে নগদ অর্থ কমেছিল ১২ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। তবে ঈদের আগে মে মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের বড় উল্লম্ফন হয়েছিল। ওই মাসে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছিল ৪৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। কোরবানির পশু কেনাবেচা, হাটের লেনদেন, কোরবানির পশু ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে নগদ লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বেরিয়ে যায়। অর্থাৎ কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মে মাসে ব্যাংকের বাইরে যাওয়া বিপুল নগদের একটি অংশ দুই মাসে ফেরত এসেছে। তবে ঈদের পর টানা দুই মাস মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ কমলেও এক বছরের হিসাবে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ এখনও অনেক বেশি। গত বছরের জুলাই শেষে ব্যাংকের বাইরে প্রচলিত নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুলাই শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বেড়েছে ৪১ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।দুই মাসে আমানত বেড়েছে সাড়ে ৫২ হাজার কোটি : ঈদের পর ঘরের টাকা ব্যাংকে ফেরার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ব্যাংকের আমানতেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই শেষে ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুন শেষে যা ছিল ২০ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। ফলে জুলাইয়ে এক মাসে আমানত বেড়েছে ১৪ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। এর আগে জুনে ব্যাংক আমানত বেড়েছিল ৩৮ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ জুন ও জুলাই— এই দুই মাসে আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। তবে জুলাইয়ে আমানত বৃদ্ধির গতি জুনের তুলনায় কমেছে। জুলাইয়ে আমানত বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ, যেখানে জুনে বেড়েছিল প্রায় ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এক বছরের হিসাবেও ব্যাংক আমানতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি রয়েছে। গত বছরের জুলাই শেষে ব্যাংক আমানত ছিল ১৮ লাখ ৮০ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুলাই শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত বেড়েছে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




