সংগৃহীত
প্রতিটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ খেলা। ক্রিকেটের মহাযজ্ঞে পারফর্ম করে দলের জয়ে অবদান রাখা; নিজের ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানকে সমৃদ্ধ করা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে থাকা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের স্বপ্নটাও ঠিক এমনই ছিল। এই স্কোয়াডে থাকা প্রত্যেকেই লাল-সবুজের জার্সিতে নিজেকে মেলে ধরতে উন্মুখ ছিলেন। তবে টাইগারদের সে স্বপ্নকে রীতিমতো গলাটিপে ‘হ*ত্যা’ করা হয়েছে! কেননা বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। এর জন্য দায়ী সে সময়কার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। জাতীয় নির্বাচনের পর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে আমিনুল হক জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ দল কেন বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি, তা তদন্ত করে দেখা হবে। এজন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত সেই তদন্ত কমিটি গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল। তার সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছিল সে সময়কার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবি। জাতীয় দলের সাবেক পেসার রুবেল হোসেন মনে করেন, বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ খেলা উচিত ছিল।তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবে না— এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। আমি মনে করি, এতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি খেলোয়াড়েরই বিশ্বকাপ খেলা স্বপ্ন থাকে। সবাই সেখানে পারফর্ম করতে চাই। যারা স্কোয়াডে ছিল তাদের অনেকেই পরবর্তী বিশ্বকাপের স্কোয়াডে নাও থাকতে পারে। আমি মনে করি, তাদের ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতি হলো। বাংলাদেশের জন্যও ভালো কিছু হয়নি।’ ক্রিকেটে ভারত পরাশক্তি। আইসিসিতেও তাদের যথেষ্ট প্রভাব আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা উচিত বলেও মনে করেন রুবেল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না যাওয়া অনেক বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। অবশ্য এটা টের পাবে! আইসিসির ইভেন্ট, বাংলাদেশ ওয়াল্ডকাপের মতো টুর্নামেন্টে খেলতে যায়নি— আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একটু ছোট করা হয়েছে। এটা সবাই জানে, আইসিসি এবং বিশ্ব ক্রিকেটে ইন্ডিয়া অনেক বড় একটা ফ্যাক্ট। তার মানে এই না, আমরা ইন্ডিয়ার কাছে মাথা নত করছি। আমরা ক্রিকেটের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যও তো, ইন্ডিয়ার সাথে..., আমরা কিন্তু খেলার সময় ইন্ডিয়াকে এক চুলও ছাড় দেই না। ক্রিকেটের স্বার্থে যাওয়া উচিত ছিল। না যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক জালাল ইউনুস মনে করেন, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্রিকেটাররা। তিনি বলেন, ‘ক্ষতিটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে খেলোয়াড়দের। বিশ্বকাপ খেললে একটা খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ হয়। সেখান থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। কারণ একজন খেলোয়াড় জানেন না, সে পরবর্তী বিশ্বকাপে ফিট থাকবে কী থাকবে না। এটা একটা খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে জন্য বড় ক্ষতি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা ব্ল্যাক স্পট পড়ে গেল যে, আমরা একটা বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি। খেলতে না যাওয়ার কারণটাও সত্যিই অদ্ভুত একটা ব্যাপার ছিল। তখন মোস্তাফিজকে নিয়ে আমরা বলেছিলাম তাকে সুযোগ (আইপিএল) দেওয়া উচিত ছিল। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে যেন খেলা হয় সেটাও আমরা বলেছিলাম, তার মানে কেউ আমরা বলিনি বিশ্বকাপ বয়কট করতে। এখান থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট ডিপলোমেসিতে পিছিয়ে গেল। অন্যান্য দেশ কেউ তো আমাদের সমর্থন করল না, যখন ভোটাভুটিতে গেল এক পাকিস্তান ছাড়া। এতেই বোঝা গেল আমাদের অবস্থানটা কোথায় ছিল। আমরা সবচেয়ে পিছিয়ে পড়েছিলাম। তার মানে ডিপলোমেসিতেও আমাদের সবচেয়ে বড় একটা পরাজয়, সেটা আমরা অনুমান করতে পারলাম। ক্রিকেট ডিপলোমেসি, খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অধ্যায়ের মধ্যে একটা ব্ল্যাক স্পট— সব মিলিয়ে সবই তো ক্ষতি, লাভের কিছু দেখি না।’চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ছিল ভারত ও শ্রীলংকা। ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের ম্যাচ ছিল ভারতে। তবে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার কারণে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। তার পরিবর্তে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলংকাতে ম্যাচ খেলার দাবি ছিল; যদিও তাতে সাড়া দেয়নি আইসিসি। ফলে বিসিবিও নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকে। সে সময় বলা হয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যাবে না। আইসিসি পরবর্তী সময়ে স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত করে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




