মা/দকমুক্ত মৌলভীবাজার গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে’- মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ PM

মা/দকমুক্ত মৌলভীবাজার গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে’- মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭/০৯/২০২৬ ০৮:০২:৩৮ PM

মা/দকমুক্ত মৌলভীবাজার গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে’- মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

ছবি:সংগৃহীত


সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক ও চোরাচালান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে মৌলভীবাজারে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি। শিগগিরই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ টাস্কফোর্স গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত প্রথম দিনের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রবেশ বন্ধে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এ লক্ষ্যেই বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং মাদক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মৌলভীবাজারকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার, প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অপরাধসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিজস্ব তথ্যসূত্রের মাধ্যমে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে।

তিনি বলেন, অপরাধীদের আগাম সতর্ক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়-এমনভাবে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা জরুরি।

সভায় অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের পুলিশে সোপর্দ করার পর আদালতের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইন ও আদালতের কার্যক্রম সরকারের নির্ধারিত বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথ নিয়মে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে জানানো হবে।

মৌলভীবাজারসহ বৃহত্তর সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এ অঞ্চল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সবার আগে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত থেকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি সুফল পাওয়া সম্ভব। পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মৌলভীবাজারকে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পর্যটনবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন মিটু, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সভায় উপস্থিত সবাই মাদক, চোরাচালান, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করে মৌলভীবাজারকে একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ