ছবি:সংগৃহীত
দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। এমনকি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যাতে থেমে না যায়, সে বিষয়েও সরকার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শনিবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাব-নূর ফাউন্ডেশন আয়োজিত শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৮ জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নূর ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা মুকতাবিস উন নূর। সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকার সহসভাপতি তোফায়েল খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শুধু সিলেট নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে-মেয়েরাও এ সহায়তার আওতায় আসবে। মেধার বিকাশে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সিলেট অঞ্চলে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসার জন্য দেশব্যাপী আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম চলছে। রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষও এ সহায়তার আওতায় রয়েছেন।
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে
সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাঁদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মৌলিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগের চিত্র সাংবাদিকেরা তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার যেসব সমস্যা যে মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত, সেগুলো সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।
এক কোটি টাকার তহবিল গড়ার লক্ষ্য নূর ফাউন্ডেশনের
সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, শিক্ষার প্রসার ও মানুষের কল্যাণের চিন্তা থেকেই নূর ফাউন্ডেশনের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষক পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁদের পরিবারে শিক্ষার প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর প্রবাসী ভাইয়ের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকেও এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে ফাউন্ডেশনের তহবিল এক কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অর্থ ওয়াক্ফভিত্তিক স্থায়ী আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করে এর আয় থেকে প্রতিবছর শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিলেট প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৫০ হাজার টাকার অনুদানের মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ভবনটির সম্প্রসারণ ঘটে। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সিলেট প্রেসক্লাবকে সাততলা ভবনে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
শিক্ষা ও শ্রমিককল্যাণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম বলেন, নূর ফাউন্ডেশনের শিক্ষা সহায়তা উদ্যোগ সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য ও তাঁদের সন্তানদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজকে আলোকিত করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তা এবং তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা ও শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বেশি মানুষকে জানানো গেলে শ্রমজীবী পরিবারগুলো উপকৃত হবে। এ ধরনের উদ্যোগ উপজেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শামসুল ইসলাম আরও বলেন, অর্থের অভাবে কোনো শিশুর স্বপ্ন নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষার প্রসার, মানবিক মূল্য
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




