সিসিকের সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে- মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০১:১৬ PM

পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে সহযোগিতা প্রয়োজন: সিসিক প্রশাসক

সিসিকের সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে- মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/০৩/২০২৬ ১২:৪৪:৪২ AM

সিসিকের সব সড়ক ‘এ’  গ্রেডে উন্নীত করা হবে- মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির


শিল্প ও বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে। নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আধুনিক বিনোদন পার্ক স্থাপন করা হবে এবং সুপেয় পানির সমস্যাও সমাধান করা হবে। পাশাপাশি সিলেট থেকে মাদক ও জুয়া চিরতরে নির্মূল করা হবে।

সোমবার সকালে সিলেট নগরীর শারদা স্মৃতি ভবনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মহানগরের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একজনকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছি, যার ওপর দেশের প্রধানমন্ত্রী আস্থাশীল। তার নেতৃত্বে আগামীতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের উন্নয়নে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির কারণে যাতে ইমামদের চাকরি না হয় কিংবা চাকরি হারাতে না হয়, সে জন্য একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যাতে ৪-৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন, সেভাবে সম্মানী নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সব উন্নয়ন কাজের স্থানীয় তদারকি কমিটিতে ইমামদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যে সম্মানী পান তা অপ্রতুল। তাই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিসিকের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সামান্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সবাই মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন এবং তাদের চাকরি সুরক্ষায় বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।

নগর উন্নয়নে ইমামদের সহযোগিতা কামনা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ছিল ২৭টি ওয়ার্ড, এখন হয়েছে ৪২টি। এত বড় নগরের সব সমস্যা একা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়, যদি না নগরবাসী সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

তিনি বলেন, আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে চাই। ইমামগণ যদি জুমার খুতবায় নগরবাসীকে সচেতন করেন তাহলে আমাদের কাজ অনেক সহজ হবে। সবাই নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখলে এবং খাল-ছড়ায় ময়লা না ফেললে আমরা পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে পারব।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার পরই সিলেটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি গ্রিন ও ক্লিন সিলেট গড়তে আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করছেন। আশা করি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক সিলেট গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।

অনুষ্ঠানে সিলেট নগরের ৮২৭টি মসজিদের ১,০৬৪ জন ইমাম ও ১,২০১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী বিতরণ করা হয়।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ