রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল, আজই শুরু হতে পারে বিচার
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০৪ PM

রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল, আজই শুরু হতে পারে বিচার

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪/০৫/২০২৬ ০৪:১৮:৩২ PM

রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল, আজই শুরু হতে পারে বিচার

সংগৃহিত


রাজধানীর পল্লবীতে বছর বছরের স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আজ রোববার বেলা ৩টার দিকে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূইয়া আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে এ চার্জ জমা দিয়েছেন।

‎তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর মৃত্যুর সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

‎জানা গেছে, এদিনই এ মামলায় চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হতে পারে। এ লক্ষে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়েছে।

এর আগে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বপ্না ও বেলা ১১টার দিকে সোহেলকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়। ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার বিচার হবে।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে তৃতীয় তলায় ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকান্ডের এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বাসা থেকেই স্বপ্না আক্তার আটক হন এবং ঘটনা ঘটিয়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়া সোহেল রানাও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। 

‎ঘটনার দিনই নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকেই আসামি করে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

‎পরদিন গত ২০ মে উভয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি করে জবানবন্দি প্রদান করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক আসামি স্বপ্নাকে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গতকাল শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে নিহতের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।

‎এর আগে গত ২১ মে রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। এরপর গতকাল শনিবার এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিনি ঘোষণা করেন।

এই মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে গতকাল বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (সরকারি কৌঁসুলি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ‎এই নৃশংস ঘটনার পর নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে।

‎গত ২২ মে রামিসা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামির পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না বলে জানায় সমিতি। 

‎মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকত। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে রামিসাকে দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করে তার মা। সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে এসে ভেতরে প্রবেশ করেন। সোহেল ও স্বপ্নার শোয়ার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিল।


‎স্বপ্না জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তার স্বামী সোহেল রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে, গোপনাঙ্গ কাটে। দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের রুমে খাটের নিচে রাখে। মাথা বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যায়। রামিসাকে রুমের মধ্যে নেওয়ার সময় আরেকজন ছিল বলে জানায় স্বপ্না।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা