সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মকসদপুর গ্রামে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ইউপি সদস্য মো. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
জানা যায়, গত ২৭ মে ২০২৬ বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মকসদপুর গ্রামে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে করিমপুর ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য ৪ জন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গ্রামের বাসিন্দা মাছুম, তাহমিম আজাদ ও তাদের সহযোগীরা ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীকে রাস্তায় আটকিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় অভিযুক্তরা ওয়াদুদ চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করতে স্বজন, প্রতিবেশী ও ভাই-ভাতিজারা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে আরও কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পুলিশের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করে।গ্রামবাসীদের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য ওয়াদুদ চৌধুরীর সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মো. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর স্বজনদের অভিযোগ, হামলার পরও অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
তবে ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় মকসদপুর গ্রামসহ ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




