ছবি:সংগৃহীত
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। শুধু ওষুধ সেবন করলেই সবসময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটাচলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নগরীতে নাগরিকদের জন্য খোলা জায়গা, পার্ক ও হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহিমের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ডায়াবেটিস সেবা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের উদ্যোগে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সিলেট ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল এবং পৃষ্ঠপোষকতা করে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।
সিসিক প্রশাসক বলেন, সিলেটে একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সিলেটের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। নগরবাসী যেন সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একসময় মনে করা হতো বয়স্কদের মধ্যেই এ রোগ বেশি দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই ডায়াবেটিসের বিস্তার ঘটছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন ও জেনেটিকসহ বিভিন্ন কারণে এ রোগ হতে পারে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ডায়াবেটিসকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে ডায়াবেটিস থেকে কিডনি, লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত হাঁটাচলা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দিতে হবে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমিও একজন ডায়াবেটিস রোগী। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। তবে বিভিন্ন পাবলিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার কারণে অনেক সময় রক্তের শর্করা বেড়ে যায়। তারপরও নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি।’
ডায়াবেটিস নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রশংসা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজেও ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন ও বারডেম হাসপাতালের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, সিলেটে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশে সিলেট সিটি করপোরেশন থাকবে।
রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রোটারিসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠন মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিতে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করবে-এটাই প্রত্যাশা।
ক্লাব প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান পিপি রুহুল আলম খান পিএইচএফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান পিপি মো. সিদ্দিকুর রহমান পিএইচএফ, কো-অর্ডিনেটর (অর্থ) রোটারিয়ান পিপি বিকাশ কান্তি দাস পিএইচএফ, পোলিও প্লাস কমিটির সদস্য রোটারিয়ান পিপি মো. আব্দুল মুকিত আরএফএসএম, রোটারিয়ান পিপি জিয়াউল হক এমপিএইচএফ, রোটারিয়ান পিপি এম এ রহিম আরএফএসএম, রোটারিয়ান পিপি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন পিএইচএফ, রোটারিয়ান পিপি মো. আফসার আহমেদ চৌধুরী পিএইচএফ, রোটারিয়ান আইপিপি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম সুমন আরএফএসএম, রোটারিয়ান আহমেদ রশীদ চৌধুরী আরএফএসএম, রোটারিয়ান মনসুর আহমেদ পিএইচএফ এবং সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতালের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিবব্রত ভৌমিক চন্দন।
এ সময় সিলেট ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




