ছবি:সংগৃহীত
সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ২ ও ৪ নম্বর দোকানগৃহে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো ধরনের বাধা না দিতে সিলেটের জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। একই সঙ্গে ওই দুই দোকানের ব্যবসা পরিচালনায় বাধা, নিষেধাজ্ঞা কিংবা উচ্ছেদের চেষ্টা না করতে সংশ্লিষ্টদের ওপর তিন মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস. এম. ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রিট পিটিশন নম্বর ৩৫৫০/২০২৬ ও ৩৫৫১/২০২৬-এর পৃথক আদেশে এ নির্দেশ দেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় দোকান বরাদ্দের চুক্তিপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্মারক জারি করে ২ ও ৪ নম্বর দোকান উচ্ছেদ করে দখল হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্ত ও নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২ নম্বর দোকানের পজেশন গ্রহীতা জামিল চৌধুরী রিট পিটিশন নম্বর ৩৫৫০/২০২৬ এবং ৪ নম্বর দোকানের পজেশন গ্রহীতা মোহাম্মদ আলী হোসেন রিট পিটিশন নম্বর ৩৫৫১/২০২৬ দায়ের করেন।
রিটে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর ও ট্রাস্টি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারির পাশাপাশি স্থগিতাদেশ দেন। তবে রিটকারীদের অভিযোগ, ওই আদেশের পরও তাদের ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ পরিস্থিতিতে তারা পৃথকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ড. এম খালেদ আহমেদ।
শুনানিতে রিটকারীদের আইনজীবীরা দাবি করেন, দোকান উচ্ছেদের আগে তাদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি, যা প্রাকৃতিক বিচারনীতির পরিপন্থী। তারা আরও জানান, রিটকারীরা সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর দখলে রয়েছেন এবং নিয়মিতভাবে দোকান ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন।
আইনজীবীরা আদালতকে আরও জানান, ৮ এপ্রিলের রুল ও স্থগিতাদেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। আইনজীবীর মাধ্যমে ৯ এপ্রিল এবং সুপ্রিম কোর্টের সার্টিফায়েড কপি ১৩ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পৌঁছানো হয়। এরপরও দোকান দুটিতে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করা হয়।
শুনানি ও দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রিটকারীদের আবেদন মঞ্জুর করেন। আদেশে ৩ থেকে ৫ নম্বর রেসপন্ডেন্টকে কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ২ ও ৪ নম্বর দোকানের শান্তিপূর্ণ দখল ও ব্যবসা পরিচালনায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এই অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা গত ১৮ আগস্ট থেকে পরবর্তী তিন মাস কার্যকর থাকবে।
রিটকারীদের আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, সিলেটের জেলা প্রশাসন হাইকোর্টের আদেশের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে এবং দোকান দুটিতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




