ছবি সংগৃহীত
গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনে তেল খালাসের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। সৌদি আরব থেকে আনা ৮২ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বঙ্গোপসাগরের গভীর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক খালাসের মধ্য দিয়ে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে লাল সবুজের বাংলাদেশ।
বার্তা সংস্থা বাসস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল জানান, সৌদি আরব থেকে আনা ৮২ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েলের পরীক্ষামূলক খালাস শুরু হয়েছে গভীর বঙ্গোপসাগরে। ১১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন দিয়ে এই তেল আসবে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। ৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কারণে তেল খালাসের সিস্টেম লস ও খরচ কমার পাশাপাশি সময় ২৫ দিন কমে মাত্র ২ দিনে নেমে আসবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলের নাব্যতা কম হওয়ায় মাদার অয়েল ট্যাংকারগুলো সরাসরি খালাস করা যায় না। এর ফলে এসব ট্যাংকার গভীর সমুদ্রে নোঙর করে ছোট ছোট লাইটারেজ ভেসেলের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল খালাস করতে হয়। তাতে এক লাখ ডিডব্লিউটি ট্যাংকার খালাস করতে সময় লাগে ১১ দিন। এই পদ্ধতি ঝুঁকিপূর্ণ, ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ হওয়ায় এইচএসডি স্থানান্তরের জন্য ২০১৫ সালে পাইপলাইন বসানোর প্রকল্পটি (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) হাতে নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করতে পারে। এর দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে পরিশোধন সক্ষমতা ৩০ লাখ টন বেড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




