কারাগারে ২ খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিল আদালত
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:২০ PM

কারাগারে ২ খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিল আদালত

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩/০১/২০২৬ ০৫:৫২:৫০ PM

কারাগারে ২ খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিল আদালত

সংগৃহিত


জেলে একসঙ্গে থাকার সময় থেকে শুরু হওয়া একটি প্রেমের গল্প এখন বিবাহে পরিণত হবে। ডেটিং অ্যাপে দেখা এক পুরুষকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক নারী এবং পাঁচজনকে হত্যাকারী এক ব্যক্তি ভারতের রাজস্থানের আলওয়ারে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন, যা আপাতদৃষ্টিতে কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো।

রাজস্থান হাইকোর্ট তাদের ১৫ দিনের জরুরি প্যারোলে মুক্তি দিয়েছেন। কনে প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং তার বাগদত্তা হনুমান প্রসাদ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আলওয়ারের বরোদামেভে তাদের বিয়ে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ডেটিং অ্যাপে দেখা হওয়া যুবক দুষ্যন্ত শর্মাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মডেল প্রিয়া শেঠকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে তার কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ছয় মাস আগে একই জেলে হনুমান প্রসাদের সঙ্গে তার দেখা হয় এবং প্রেমে পড়েন।

প্রিয়া শেঠের ভয়াবহ খুন

যে খুনের মামলায় প্রিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল তা ২০১৮ সালের। ওই বছরের ২ মে প্রিয়া ও তার প্রেমিক এবং অন্য একজন পুরুষের সহায়তায় সিংকে হত্যা করে। তার পরিকল্পনা ছিল অপহরণ করা, মুক্তিপণ চাওয়া এবং তার প্রেমিক দীক্ষিত কামরার ঋণ পরিশোধ করা।

তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রিয়া টিন্ডারে দুষ্যন্ত-এর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে এবং তাকে বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠায়। এরপর সে তার বাবার কাছ থেকে ১০ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করে। তার বাবা ৩ লাখ রুপি ব্যবস্থা করে পাঠান। তবে, প্রিয়া এবং তার সহযোগীরা পুলিশ ধরা পড়ার ভয়ে দুষ্যন্তকে হত্যা করে। পরে তারা মরদেহটি একটি স্যুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ে ফেলে দেয়। পাশাপাশি মরদেহ যেন শনাক্ত না করতে পারে, সেজন্য তারা তার মুখে বেশ কয়েকটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দিয়েছিল এবং প্রমাণ নষ্ট করার জন্য ফ্ল্যাটটি পরিষ্কার করেছিল। ৩ মে রাতে আমের পাহাড় থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরে প্রিয়া ও তার সহযোগীদের ওই ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৫ খুনের পেছনে হনুমান প্রসাদ

হনুমান প্রসাদ তার পরকীয়া প্রেমিকার স্বামী এবং সন্তানদের হত্যার দায়ে সাজা ভোগ করছেন। তার প্রেমিকা সন্তোষ আলওয়ারে একজন তায়কোয়ান্ডো খেলোয়াড় ছিলেন। ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে প্রেমিকা সন্তোষ হনুমানকে তার বাড়িতে ডেকে পাঠায়, তার স্বামী এবং সন্তানদের হত্যা করার জন্য। প্রসাদ তার এক সহযোগীর সঙ্গে সেখানে পৌঁছে পশু জবাইয়ের জন্য ব্যবহৃত ছুরি দিয়ে তার স্বামী বনওয়ারি লালকে হত্যা করে।

তবে সন্তোষের তিন সন্তান এবং এক ভাগ্নে ঘুম থেকে জেগে হত্যাকাণ্ডটি দেখে ফেলে। ধরা পড়ার ভয়ে তিনি তার সন্তান এবং ভাগ্নেকেও হত্যা করতে বলেছিলেন। প্রসাদ বাকি কাজটি করেছিলেন। আলওয়ারের সবচেয়ে কুখ্যাত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে এটি একটি। সেই রাতে চার শিশু এবং একজন পুরুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছিল।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: