সিলেটের শাহজালাল মাজারে ওরস
ব্যাপক উৎসাহ উদ্ধীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে, ওলিকুল শিরোমণি, হজরত শাহজালাল মুজাররাদে ইয়েমনী রহ.-এর ৭০৪তম ওরস মেবারক। শুক্রবার থেকে ওরস শুরু হয়ে শেষ হবে শনিবার ভোররাতে। ওরসকে কেন্দ্রকরে মাজার প্রাঙ্গনকে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
প্রতি বছর আরবি মাসের ১৯ ও ২০ জিলকদ দুই দিনব্যাপী হজরত শাহজালালের রহ. ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শুক্রবার সকালে ঐতিহ্যবাহী গিলাফ ছড়ানোর মাধ্যমে ওরস কার্যক্রমের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে শাহজালাল রহ. দরগাহ কর্তৃপক্ষ। শনিবার ভোররাতে অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত, এরপর তাবারূক (শিরণী) বিতরণের মধ্যদিয়ে সমাপ্ত হবে দুইদিনব্যাপী ওরসের কার্যক্রম।
এর আগে বৃহস্পতিবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওরস উপলক্ষে ভক্ত আশেকানরা জড়ো হতে শুরু করেন। শাহজালালের শানে বিভিন্ন গান ও গজল গেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মাজারে আসেন ভক্ত-আশেকানরা। অসংখ্য অনুরাগীরা শামিয়ানা টাঙিয়ে দলে দলে জড়ো হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীগোষ্ঠীরাও ভক্তিমূলক গানের জলসা বসিয়েছেন মাজার এলাকায়। এছাড়াও শান্তিপূর্ণভাবে ওরস সম্পন্ন করতে প্রশাসন এবং মাজার কর্তৃপক্ষ নিয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।
মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ওরসের সার্বিক নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। দরগাহ এলাকায় বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা এবং মাজারের প্রত্যেকটি প্রবেশ দ্বারে বাড়ানো হয়েছে বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা।
উল্লেখ্য, ইসলাম প্রচারের জন্য হযরত শাহজালাল রহ. ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৬০ সফরসঙ্গী নিয়ে সিলেট আসেন। ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জিলকদ তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে তিনি যে টিলায় বসবাস করতেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। তার কবরকে ঘিরেই পরে গড়ে উঠেছে মাজার।
শাহিদ হাতিমী




