তিন কক্ষের জরাজীর্ণ ভবনে ২শ শিক্ষার্থী, চরম সংকটে মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৬:৪০ PM

তিন কক্ষের জরাজীর্ণ ভবনে ২শ শিক্ষার্থী, চরম সংকটে মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/০৫/২০২৬ ০৫:০৫:৫২ PM

তিন কক্ষের জরাজীর্ণ ভবনে ২শ শিক্ষার্থী, চরম সংকটে মোকামপুঞ্জি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সংগৃহীত


সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ২নং জৈন্তাপুর  ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে। মাত্র তিন কক্ষের একটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রায় ২শ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি প্রথমে বাঁশ-বেতের ঘরে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৯৪ সালে নির্মিত তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র ভরসা। দীর্ঘ সময় সংস্কার বা নতুন ভবন না হওয়ায় বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে।

বিদ্যালয়টিতে শ্রীপুর চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান, মোকামপুঞ্জির খাসিয়া পল্লীর শিশু, আলুবাগান এলাকার হিন্দু ও পাত্র সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মুসলিম পরিবারের শিশুরা পড়াশোনা করছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান এটি।সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হয়। অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের বসতে হয়। তীব্র গরমে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া শিক্ষকদের জন্য থাকা ছোট অফিস কক্ষে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র রাখতেই জায়গার সংকট তৈরি হয়। শিক্ষক ও অভিভাবকদের বসারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজমল আলী বলেন, “বর্তমান ভবনে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো বসার ব্যবস্থাও নেই। দ্রুত একটি আধুনিক ও প্রশস্ত ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।”

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইমাম উদ্দিন বলেন, “মাত্র তিনটি কক্ষে অত্যন্ত নাজুক পরিবেশে পাঠদান চলছে। ছোট অফিস কক্ষে শিক্ষকরা ঠিকমতো বসতেও পারেন না। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে লেখাপড়া করছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।”২নং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, “এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিভিন্ন দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা এখানে পড়াশোনা করে। নতুন ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমবে।”

শনিবার (৯ মে) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে ২নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম বলেন, “মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার অন্যতম ভরসাস্থল। কিন্তু বর্তমান ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অপ্রতুল। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি।”এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ২শ শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা