ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজারে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে ফের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত ২০ থেকে ২৫ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাউয়া কোনাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও খিদ্রাকাপন গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আখলুছ মিয়ার মধ্যে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রায় এক বছর আগে জমিটি ক্রয় করা হলেও এখনো রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে বুধবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।
এর জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে জাউয়াবাজার এলাকায় মোহাম্মদ আলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় ফের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ আলীর সমর্থকরা আখলুছ মিয়া পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালালে উভয় গ্রামের শত শত মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ হামলা-পাল্টা হামলায় অংশ নেয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি শান্তিগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করেন।
এদিকে সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের সঙ্গে মধ্যস্থতায় অংশ নেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান কামরুল। সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে যাওয়ার পথে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ইটের আঘাতে তিনি আহত হন। পরে পুলিশ তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
ছাতক থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




