ছবি: জৈন্তা বার্তা
শাহাব উদ্দিন শাহিন, বালাগঞ্জ
বালাগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে বালাগঞ্জ বাজার। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের ঐতিহ্যবাহী এ বাজারটির ব্যবসা-বাণিজ্য ঈদকে কেন্দ্র করে বেশ জমে উঠেছে। বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ।
কুশিয়ারা নদীর তীরের এই ঐতিহ্যবাহী বাজারের ক্রেতারা মূলত গ্রামীণ জনপদের। বালাগঞ্জ উপজেলার অনেকেই মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পূর্বেই অনেকে দেশে অর্থ প্রেরণ করায় দেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজন নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে পারছেন। বাজারের ক্রেতা মূলত কুশিয়ারা নদীর দুই তীরের লোকজন।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বালাগঞ্জ বাজারে ঈদের বেচাকেনা বেশি হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে স্থানীয়রা জানান, শহরে যানজট, চুরি, ছিনতাইয়ের ঝুঁকি এবং যাতায়াতে সময় বেশি লাগে বলে অনেকেই শহরে না গিয়ে বালাগঞ্জ বাজার থেকেই ঈদের কেনাকাটা করছেন। বালাগঞ্জ বাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে তরুণী ও নারীদের ভিড় লক্ষ্যণীয়। বাজারের পুরাতন থানা রোড এবং মধ্য বাজারে মূলত কাপড়ের দোকান বেশি। এসব দোকানে যেমন ভিড় বেশি, তেমনি বিক্রিও হচ্ছে বেশি। শাহজালাল, শাহপরান, সুমন, লোকনাথ, ফ্যাশন গ্যালারিসহ অন্যান্য দোকানে শাড়ি, থান কাপড়, থ্রি পিস ও শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পুরুষদের পাঞ্জাবিসহ তুব্বা বিক্রি হচ্ছে বেশি। পোশাকের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে টুপি, আতর, মেহেদীও।
ভ্রাম্যমাণ টুপি, মেহেদী ও আতর বিক্রেতা হাসান জানান, বিক্রি ভালো হচ্ছে। আশা করি আগামী কয়েকদিন আরও ভালো বিক্রি হবে।
রহমান কম্পিউটারের উদ্যোক্তা হামিদুর রহমান নয়ন জানান, বিকাশ ও নগদে টাকা উত্তোলন বেড়েছে। বেশির ভাগ গ্রাহকই নারী।
জুতা ও প্রসাধনীসামগ্রীর দোকানেও তরুণ-তরুণীদের ভিড় লক্ষ্যণীয়। বাজারে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নারী ও শিশুদের ভিড় বেশি থাকছে।
তবে এবার দর্জির দোকানে ভিড় তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে স্থানীয় দর্জি আল আমিন জানান, লোকজন পোশাক তৈরির চেয়ে মার্কেট থেকে বা অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন বেশি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




