ছবি:সংগৃহীত
দীর্ঘ আট বছর বন্ধ থাকার পর সিলেটের আলোচিত পাথর কোয়ারিগুলো আবারও চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক আহ্বান করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার পাথর কোয়ারি চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ে প্রাথমিকভাবে সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে অংশীজনদের মতামত নিতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সিলেটের দুই মন্ত্রী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের এমন উদ্যোগে সিলেট অঞ্চলের পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের মতে, কোয়ারি চালু হলে সরকার রাজস্ব পাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১১ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের সভায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনারসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জানা গেছে, আরিফুল হক চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকায় তিনি ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হবেন। এর আগে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে পরিবেশের ক্ষতি না করে পাথর উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সেই প্রেক্ষাপটেও কোয়ারি চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পরিবেশগত ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকির কারণে ২০১৬ সালে জাফলং, ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া-এই পাঁচটি পাথর কোয়ারি থেকে উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ২০১৮ সালে সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত আটটি কোয়ারির ইজারা স্থগিত করে পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা হয়। এর আগেই ২০১২ সালে জাফলং এলাকা পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতারা কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন এবং এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলনও হয়েছে। অন্যদিকে, পাথর কোয়ারি পুনরায় চালুর উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বেপরোয়া পাথর উত্তোলনের কারণে সিলেটে ১০৬ জন শ্রমিক নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় বহু শ্রমিক মাটিচাপা পড়ে মারা যান। এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের চূড়ান্ত নীতিমালা কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যেহেতু বৈঠক ডাকা হয়েছে, সেখানে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কোয়ারি বন্ধ থাকার সুযোগে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় কোটি কোটি টাকার পাথর লুটের অভিযোগ ওঠে, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে। সব মিলিয়ে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীবিকার ভারসাম্য বজায় রেখে সিলেটের পাথর কোয়ারি চালু করা হবে কি না-তা নির্ধারণে আগামীকালের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




