নিজস্ব
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার কুলুমছড়া গ্রামে বিয়ের দাবিতে ৩ দিন ধরে ২ সন্তানের জনক এক প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন মোহনা আক্তার ( ১৫)নামে এক কিশোরী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গত শনিবার ১১ জুলাই সকাল থেকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের দুই সন্তানের জনক প্রেমিক কামরুল ইসলামের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন ওই কিশোরী।প্রেমিকা কিশোরী মোহনা আক্তার বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার খবর পেয়েই প্রেমিক কামরুল ইসলাম তার স্ত্রী সন্তানসহ বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তবে মঙ্গলবার ১৪ জুলাই সকালে তার স্ত্রী বাড়িতে আসলেও প্রেমিক কামরুল ইসলাম বাড়িতে আসেনি।
প্রেমিক কামরুল ইসলাম উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কুলুমছড়া গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী কিশোরী মোহনা আক্তার উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বিছানকান্দি গ্রামের রুনু মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি ইউপি সদস্য ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সমাধানের চেষ্টা করেও কোন সমাধান হয়নি ।গত ১১ জুলাই বিয়ের দাবিতে কিশোরী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থানের খবর পাওয়ার পর প্রেমিক বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানান, গত দেড় বছর আগে কিশোরীর বাড়ির পাশে কামরুলের বালু ও পাথর ব্যবসার সাইট ছিল।সেই সুবাদে কিশোরীর চাচার সাথে তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা করত সে। তাকে বার বার বিরক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিতো। একদিন তাকে বাড়ির পাশে নদীর ঘাটে জোর পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে এবং তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে এবং এ বিষয়ে কাউকে বলতে না করে এবং এ ঘটনা কাউকে বললে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করবে।কিশোরীর দাবি এর পর থেকেই ভিডিও দিয়ে তাকে ব্ল্যল্ক মেইল করে কামরুল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তা একবছর ধরে চলছে ।পরবর্তীতে জানতে পারে কামরুলের ঘরে বউ ও সন্তান আছে। ওই সময় প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় কিশোরী।কিন্তু কামরুল তাতে রাজি না হয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তার সঙ্গে একাধিক বার বিভিন্ন স্থানে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে কামরুল।প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে মুরুব্বিরা।তাই গত ১১ জুলাই সকালে তার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করেন তিনি। কিশোরীর দাবি তার লাইফ ধব্বংস করেছে তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত তার বাড়ি ছাড়বেন না বলেও জানান ওই কিশোরী।
কিশোরীর বাবা রানু মিয়া জানান, কামরুল আমার কিশোরী মেয়েকে প্রলোভন দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক করে।বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম্য সালিসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে কিন্ত সমাধান হয়নি।বর্তমানে তার মেয়ে বিয়ের দাবিতে কামরুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন।কামরুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং তার আত্মীয় স্বজনরা তার মেয়েকে মারধর করেছে। তাদের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি মিমাংসা করতে না পেরে তিনি বিচারের দাবিতে গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি এখনো ওই বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




