ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের জৈন্তাপুরে জিয়াসমিন আক্তার (৩২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী ও সতিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে জিয়াসমিনকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। পরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন-জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের নয়াগাতী এলাকার বশির আহমদের ছেলে মো. রফিক আহমদ ওরফে রশিদ আহমদ (৫২) এবং তাঁর আরেক স্ত্রী মোছা. রোশনা বেগম (৩৬)। নিহত জিয়াসমিন আক্তার রশিদ আহমদের স্ত্রী এবং রোশনা বেগম তাঁর বড় সতিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নয়াগাতী এলাকায় রফিক আহমদ ওরফে রশিদ আহমদের বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে জিয়াসমিনকে তাঁর স্বামী ও সতিন শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে জিয়াসমিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর বাবা বশির আহমদ তাঁকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় জিয়াসমিনের স্বামী রফিক আহমদ ওরফে রশিদ আহমদ এবং তাঁর আরেক স্ত্রী রোশনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




