সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রতিযোগিতায় টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে হোসে মরিনিওর দল। রিয়ালের জয়ে গোল করেছেন বের্নার্দো সিলভা, আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিয়োমান্দে।ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে কাছ থেকে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন সিলভা। বিরতির পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গুলের। এরপর এমবাপ্পের বাঁকানো শটে ব্যবধান আরও বাড়ে। জার্মান ক্লাবটির হয়ে তিদিয়াম গোমিস একটি গোল শোধ করলেও শেষ দিকে দুর্দান্ত ভলিতে রিয়ালের বড় জয় নিশ্চিত করেন দিয়োমান্দে।সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চতুর্থ জয় পেল রিয়াল। রোববার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে স্প্যানিশ লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
দুই মৌসুম ধরে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি রিয়াল। ঘরোয়া লিগেও মৌসুমের শুরুটা ছিল কিছুটা অস্থির। তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে দলটি। অন্যদিকে, মঙ্গলবার প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের কাছে হেরে ধাক্কা খেয়েছে বার্সেলোনা।লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ভিনিসিউস জুনিয়রকে শুরু থেকেই বাঁ প্রান্তে খেলান মরিনিও। তবে সাবেক লাইপজিগ উইঙ্গার দিয়োমান্দেকে প্রথম একাদশে রাখেননি তিনি। মাঝমাঠে বের্নার্দো সিলভা ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে খেলানোর পাশাপাশি ফেদেরিকো ভালভার্দেকে আবারও রাইটব্যাকের দায়িত্ব দেন রিয়াল কোচ। সেভিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচেও এই ভূমিকায় খেলেছিলেন তিনি।
শুরুতে গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে লাইপজিগ। তবে রোমুলো কারদোসোর নিচু শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। অন্যদিকে, রোমার বিপক্ষে আগের ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকা ভিনিসিউসও কয়েকটি আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন। তার জোরালো প্রচেষ্টা আটকে দেন লাইপজিগের গোলরক্ষক মার্টেন ফানদেভুর্ট।প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় রিয়াল। ভালভার্দের বাড়ানো বল থেকে গুলের শট নেন। গোলরক্ষক তা ঠেকালেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। সুযোগ বুঝে ছুটে এসে বল জালে পাঠান সিলভা। এ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম গোল।এরপর ভালভার্দের জোরালো শটও ঠেকিয়ে দেন ফানদেভুর্ট। তবে বিরতির পর ৫২ মিনিটে আর রিয়ালকে আটকাতে পারেননি তিনি। জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে দূরের পোস্টে বল পান এমবাপ্পে। হেডে বলটি গোলমুখে বাড়িয়ে দেন ফরাসি তারকা। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে সামলে বল জালে পাঠান গুলের।এরপর বেলিংহামের পাস থেকে আরও একটি সুযোগ পান এমবাপ্পে। কিন্তু তার জোরালো শট জালের বাইরের অংশে লাগে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে মরিয়া ছিল রিয়াল।
খেলা শেষ হওয়ার ২০ মিনিট আগে ভিনিসিউসকে তুলে দিয়োমান্দেকে মাঠে নামান মরিনিও। মাঠ ছাড়ার সময় হতাশ দেখাচ্ছিল ব্রাজিলিয়ান তারকাকে। লা লিগায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী ৪ নভেম্বর এথেন্সের এইকের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আর খেলতে পারবেন না তিনি।এরপর বক্সের বাইরে থেকে বল পেয়ে এমবাপ্পের উদ্দেশে বাড়িয়ে দেন দিয়োমান্দে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত বাঁকানো শটে নিজের গোলটি করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০।তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি গোল শোধ করে লাইপজিগ। রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হাউসেনের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে কোর্তোয়ার জাল খুঁজে নেন গোমিস।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ান দিয়োমান্দে। ব্রাহিম দিয়াজের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে বলকে জালের ওপরের কোণে পাঠান তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজের শেষ চার ম্যাচে এটি তার তৃতীয় গোল।শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন জয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেওয়ার পাশাপাশি বার্সেলোনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে নিল মরিনিওর দল।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




