পর্তুগালে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

পর্তুগালে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭/১০/২০২৬ ০৮:১৫:৩৩ অপরাহ্ন

পর্তুগালে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য

সংগৃহীত


পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। দলের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন রোনালদোর বোন এলমা অ্যাভেইরো। তার মন্তব্য, রোনালদোর আবারও পর্তুগালের জার্সিতে মাঠে ফেরার চেয়ে না ফেরার সম্ভাবনাই এখন বেশি। একই সঙ্গে বিশ্বাসে আঘাত লাগলে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া যে কঠিন, সেই কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের নেশনস লিগের ক্যাম্প ছেড়ে আকস্মিকভাবে চলে যান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পরই এই ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রোনালদো ও কোচ হোর্হে জেসুসের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা।বুধবার একটি বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তাঁর বোন এলমা। ঘটনাটিকে তিনি জটিল পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ওই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন কোচ হোর্হে জেসুসও।হ্যাঁ’র চেয়ে না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি

রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এলমা অ্যাভেইরো বলেন, পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে তার ভাইয়ের ফিরে আসার সম্ভাবনার চেয়ে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁর চেয়ে না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমার মনে হয়, দুজনই আঘাত পেয়েছেন। পরিস্থিতিটি তারা দুজনই মোকাবিলা করেছেন, আমি নই। আমি আমার ভাইয়ের হয়ে কথা বলছি।’

এরপর পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরে এলমা বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি এক জায়গায় আটকে আছে। দেখা যাক, কী হয়। আমি জানি না, ব্যাপারটি খুবই জটিল। যখন আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়, তখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া খুব কঠিন।’

এলমার এই মন্তব্য রোনালদো ও জেসুসের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিশেষ করে, রোনালদোর মতো অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়ের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এমন হতাশাপূর্ণ বক্তব্য পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

রোনালদোর অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না, আক্ষেপ বোনের পর্তুগিজ ফুটবলে রোনালদোর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলমা। তার মতে, দেশের ফুটবলে রোনালদোর অর্জন ও অবদানের জন্য আরও বেশি সম্মান প্রাপ্য তার ভাইয়ের। সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে রোনালদোকে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোনালদোর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তার মা দোলোরেস অ্যাভেইরোর প্রতিক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছেলের এমন সিদ্ধান্তে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। সব মিলিয়ে, রোনালদোর পারিবারিক পরিমণ্ডলেও এই ঘটনা যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করেছে, তা এলমার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলার বিষয়টিও সামনে এসেছে। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে তার বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল কী হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

তদন্তসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে। ফলে রোনালদোর বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি আসতে পারে এবং সেটি তার পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে অংশগ্রহণে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা কেবল কোচের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে না; শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার ফলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রোনালদোর ফেরার অপেক্ষায় সতীর্থরা

রোনালদো ও জেসুসের মধ্যে বিরোধের খবর ছড়িয়ে পড়লেও পর্তুগাল দলের সতীর্থরা পরিস্থিতির ইতিবাচক সমাধান চান। পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনহা সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোনালদো যেন আবারও জাতীয় দলে ফিরে আসেন, সেই প্রত্যাশা জানিয়ে ভিতিনহা বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে আমি শুধু আশা করি, সবকিছু যেন সবচেয়ে ভালোভাবে সমাধান হয়। আমি আশা করি, সে ফিরে আসবে এবং সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সত্যি বলতে, আমরা সবাই এটাই চাই। আমি আশা করি, সে ফিরে আসবে এবং সবকিছু মিটে যাবে।’

ভিতিনহার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দলের খেলোয়াড়েরা রোনালদোকে আবারও জাতীয় দলের সঙ্গে দেখতে চান। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে বিরোধের অবসান ঘটিয়ে তাকে দলে ফেরানোই সতীর্থদের প্রত্যাশা।

তবে এলমার সাম্প্রতিক মন্তব্যে পরিস্থিতি যে এখনো জটিল, তা স্পষ্ট। তার মতে, দুই পক্ষই মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে। ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে শুধু মাঠের বাইরের বিরোধ মেটানোই যথেষ্ট হবে না; পারস্পরিক আস্থাও ফিরিয়ে আনতে হবে।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দু/র্ঘটনায় শিশুসহ দুজন নিহ/ত, আহ/ত ৫
বোনের বিয়ের দাওয়াত নিয়ে বি/রোধ, জগন্নাথপুরে খু/ন হলেন ব্যবসায়ী
জৈন্তাপুরে ৭৪ লাখ টাকার ভা/রতীয় মহিষ-গরু ও শাড়ি জ/ব্দ
জৈন্তাপুরে ট্রাক থেকে বিদেশি ম/দ, ফে/নসিডিল ও ই/য়া/বা জ/ব্দ, আট/ক ৩
কানাইঘাট সী/মান্তে গু/লিবি/দ্ধ বাংলাদেশির ম/রদে/হ উ/দ্ধার
রিসোর্টে অ/গ্নিকা/ণ্ডে ৬ পর্যটকের মৃ/ত্যু
জাফলং চা-বাগানের শ্রমিকদের পাশে মোস্তাফিজুর রহমান কাওছার
কারাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে
জুড়ীতে নি/ষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মা/মলা
পানি সংকট নিরসনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে সিসিক : প্রশাসক