জগন্নাথপুরে ৩৫ বছর ধরে কবরের ওপর বসবাস বৃদ্ধের
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

জগন্নাথপুরে ৩৫ বছর ধরে কবরের ওপর বসবাস বৃদ্ধের

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০/১০/২০২৬ ১১:০১:০০ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুরে ৩৫ বছর ধরে কবরের ওপর বসবাস বৃদ্ধের

ছবি:সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের কাঠবাজার এলাকার একটি কবরের ওপর টানা ৩৫ বছর ধরে বসবাস করছেন ৬০ বছর বয়সী এক গৃহহীন ব্যক্তি। প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো একটি কবরই তাঁর আশ্রয়স্থল। সেখানেই তাঁর থাকা, খাওয়া ও ঘুমানো। অন্যের কাছে আশ্রয় না পেয়ে একসময় কবরস্থানকে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেন তিনি।

জগন্নাথপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র কাঠবাজার এলাকায় রয়েছে কবরস্থানটি। চারপাশে সারি সারি কবর। সন্ধ্যার পর যেখানে অনেকেই কবরস্থানের পাশ দিয়ে চলাচল করতে ভয় পান, সেখানে বছরের পর বছর ধরে কবরের ওপরই রাত কাটছে ওই বৃদ্ধের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় জগন্নাথপুর পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে রাত কাটাতেন তিনি। গৃহহীন অবস্থায় একপর্যায়ে আশ্রয়ের জন্য বেছে নেন কাঠবাজার এলাকার এই কবরস্থান। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৩৫ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে কবরের ওপরই গড়ে তুলেছেন নিজের অস্থায়ী আবাস।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কবরস্থান থেকে বাইরে বের হওয়ার সময়ও সতর্ক থাকেন ওই ব্যক্তি, যাতে তাঁকে হঠাৎ দেখে কেউ ভয় না পান। কবরস্থানের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই তাঁর জীবন কাটছে বছরের পর বছর।

বিষয়টি নজরে আসার পর জগন্নাথপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুল মতিনের ছেলে মির্জা স্বপন আহমেদ কবরটির ওপর টিনের ছাউনি তৈরি করে দেন। এতে রোদ-বৃষ্টি থেকে কিছুটা সুরক্ষা পেয়েছেন ওই বৃদ্ধ।

মির্জা স্বপন আহমেদ বলেন, ‘তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আমার বাবা ব্যারিস্টার আব্দুল মতিনের কবরের ওপর বসবাস করছেন। মেঘ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে আমি কবরের ওপর টিনের ছাউনি করে দিয়েছি। তিনি সব সময় এখানেই থাকেন। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ তাঁকে দেখতে আসেন। তবে তিনি সবার কাছ থেকে খাবার বা উপহার নেন না। নিজের ইচ্ছা হলেই নেন।’

ব্যারিস্টার আব্দুল মতিনের স্বজনেরা জানান, ওই ব্যক্তি সুস্থ ও স্বাভাবিক। তিনি কবরস্থানের কোনো ক্ষতি করেন না। এ কারণে তাঁকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘৩৫ বছর আগে ব্যারিস্টার আব্দুল মতিনের বাড়ির সামনে কবরস্থান ও একটি তালগাছ ছিল। তখন ওই এলাকায় মানুষের চলাচল কম ছিল। সেই সময় থেকেই লোকটি এখানে বসবাস করছেন। অনেক ঝড়-বৃষ্টি ও দুর্যোগের সময়ও তিনি এখান থেকে যাননি। অনেক দিন পর আব্দুল মতিনের ছেলে মির্জা স্বপন কবরের ওপর টিনের ছাউনি করে দেন।’

আব্দুল জলিল আরও জানান, ওই ব্যক্তির মূল বাড়ি ময়মনসিংহে।

কবরের ওপর বসবাস করা নিয়ে ওই বৃদ্ধের বক্তব্য, ‘একদিন তো মরতেই হবে। তখন তো এই কবরই শেষ ঠিকানা। তাই কবরে ঘুমাতে আমার আর ভয় লাগে না।’

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: