সংগৃহীত
রোমার মাঠে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হলো ইউরোপীয় ফুটবল। ম্যাচের শেষ ছয় মিনিটে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে স্বাগতিক রোমাকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা। রোমার সাবেক কোচ হোসে মরিনিওর জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল স্মরণীয় এক পুনর্মিলন।
ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখিয়ে ২০ মিনিটে মার্টেন ডি রুনের গোলে এগিয়ে যায় রোমা। ২৫ গজ দূর থেকে তার নেওয়া জোরালো শট ঠেকাতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এরপর দোনিয়েল মালেনের শক্তিশালী শটও অল্পের জন্য গোল হয়ে যাচ্ছিল। তবে বলটি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন রিয়ালের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা।কিন্তু প্রথম গোল হজমের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে রিয়াল। রোমার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মারিও এরমোসোর ভুলের সুযোগ নিয়ে গোলের দিকে এগিয়ে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার নেওয়া শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে অতিথিরা।
চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নেমে গোলটি করেন এমবাপ্পে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে প্রতিযোগিতাটিতে শততম ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েন তিনি। এটি ছিল তার ৭২তম গোল, যার মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসকে ছাড়িয়ে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকার প্রথম পাঁচে উঠে আসেন ফরাসি তারকা।সমতায় ফেরার পর ম্যাচে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রিয়াল। বিরতির আগে মার্ক কুকুরেয়া ও জুড বেলিংহ্যাম গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সফল হতে পারেননি।বিরতির পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় রোমা। ম্যাচ শুরুর আগে দলটির কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে সরে আসবে না তার দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেই কথার প্রতিফলন দেখা যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই রোমাকে এগিয়ে দেন মালেন। বিরতির পর বদলি হিসেবে নামা রদ্রিগো মোরা বল বাড়িয়ে দিলে প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণ করেন মালেন। পরের স্পর্শেই কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।এর মাত্র ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ডাচ ফরোয়ার্ড। সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে জোরালো শটে গোল করেন তিনি। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও পর্যালোচনার পর সেটিকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় রিয়াল। এমবাপ্পে দুবার গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোলিনিকে পরীক্ষা নেন। পরে তার আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।
তবে শেষ পর্যন্ত রোমার রক্ষণভাগ ভাঙতে কার্যকর ভূমিকা রাখে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো। ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে হেড থেকে ফিরে আসা বলে কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান কমান কার্লোস এসপি। এর মাত্র দুই মিনিট পর আরেকটি কর্নার থেকে হেডে গোল করে রিয়ালকে সমতায় ফেরান এন্দ্রিক। মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। যে রোমা কিছুক্ষণ আগেও দুই গোলে এগিয়ে ছিল, তারাই তখন চাপে পড়ে যায়।ম্যাচের ৯০তম মিনিটে আসে রিয়ালের জয়সূচক গোল। কর্নার থেকে আসা বলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে পেছনে ফেলে কাছ থেকে বল জালে পাঠান রোমার সাবেক রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আন্তোনিও রুডিগার। শেষ ছয় মিনিটে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করে রিয়াল মাদ্রিদ।এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট অর্জন করল রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে দুই ম্যাচ শেষে রোমার সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট।
একসময় রোমার কোচ হিসেবে সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন হোসে মরিনিও। তার অধীনে দলটি উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ইউরোপা লিগের ফাইনালেও উঠেছিল। আড়াই বছরের দায়িত্ব পালনকালে রোমার সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন পর্তুগিজ এই কোচ।সাত বছরের বেশি সময় পর নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলতে নেমে মরিনিওকে ব্যানার ও স্লোগানে সম্মান জানান রোমার সমর্থকেরা। তবে আবেগঘন সেই পুনর্মিলনের রাতে শেষ হাসি হাসলেন মরিনিওর সাবেক দল রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




