ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের বিশ্বনাথে ৮০ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক আরিফুন নেছার ১৭০ শতক বসতভিটা ও কৃষিজমি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজা ও স্থানীয় যুবদল নেতা কয়েছ আহমদ কালার বিরুদ্ধে। নিজের সম্পত্তি ফিরে পাওয়া এবং বসতবাড়িতে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই নারী।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজেএ), সিলেট বিভাগীয় কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আরিফুন নেছা। অভিযুক্ত কয়েছ আহমদ কালা বিশ্বনাথ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরিফুন নেছা জানান, তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার ৬ নম্বর বিশ্বনাথ ইউনিয়নের পূর্ব শ্বাসরাম গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আব্দুল মজিদ (মাস্টার মজিদ), ছেলে ও মেয়েরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যরা প্রবাসে থাকায় বিশ্বনাথের শ্বাসরাম মৌজায় তাঁদের ১৭০ শতক জমি ও বসতবাড়ি দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁর ভাই প্রয়াত ফরিদ মিয়াকে।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের ৫ আগস্ট তাঁর মেয়ে মিনা বেগম মামা ফরিদ মিয়ার কাছ থেকে বসতবাড়িসহ ওই জমি ক্রয় করেন। পরে ২০১৭ সালে সাফকবালা দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তিটি পুনরায় তাঁর নামে হস্তান্তর করা হয়। ২০০১ সালে ফরিদ মিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে কয়েছ আহমদ কালা জমি ও বসতবাড়ি দেখাশোনার দায়িত্ব পান বলে দাবি করেন তিনি।
আরিফুন নেছার অভিযোগ, তাঁর মেয়ে মিনা বেগমের সঙ্গে কয়েছ আহমদ কালার ভাই কয়ছর মিয়ার বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। প্রায় সাত বছর আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর পারিবারিক বিরোধের জেরে কয়েছ আহমদ কালা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বসতবাড়ি ও জমি দখলে রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফুন নেছা আরও বলেন, প্রায় নয় মাস আগে তিনি লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন। গত ১ জুলাই ২০২৬ বিকেলে নিজের বসতবাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে কয়েছ আহমদ কালা, তাঁর দুই ভাতিজি আছমা ও রাহেলা এবং ভাবি ছগিরা খাতুন তাঁকে বাধা দেন। এ সময় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সামছুদ্দিন শানু, স্থানীয় বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সালিসের সিদ্ধান্ত মানা হয়নি এবং জমিও দখলমুক্ত করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
আরিফুন নেছা অভিযোগ করেন, বর্তমানে নিজের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সরেজমিনে তদন্তে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি যুবদল সভাপতির পরিচয় দিয়ে পুলিশকে ফিরিয়ে দেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ৮০ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ নাগরিক।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফুন নেছা তাঁর জমি উদ্ধার, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিজ বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কয়েছ আহমদ কালার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




