বৃষ্টি-ঢলে বিপর্যস্ত সুনামগঞ্জ, হাওড়ে ধান রক্ষায় যুদ্ধ
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৯:৫১ PM

বৃষ্টি-ঢলে বিপর্যস্ত সুনামগঞ্জ, হাওড়ে ধান রক্ষায় যুদ্ধ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১/০৫/২০২৬ ০৭:৫৬:৫৬ PM

বৃষ্টি-ঢলে বিপর্যস্ত সুনামগঞ্জ, হাওড়ে ধান রক্ষায় যুদ্ধ

সংগৃহিত


গত কয়েকদিনে ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান, পাশাপাশি বেড়েছে নদ-নদীর পানির স্তর। এতে চলতি মৌসুমে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

ইতোমধ্যে মধ্যনগর উপজেলায় দুটি বাঁধ ভেঙে হাওড়ে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরন বিল ও জিনারিয়া বাঁধ ভেঙে অন্তত তিনটি ছোট হাওড় প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টি থেমে গেলেও দুপুরের পর প্রায় এক সপ্তাহ পর হাওড়াঞ্চলে সূর্যের দেখা মেলে। তবে এই অনুকূল আবহাওয়া কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। কৃষকদের মতে, পানি নেমে ধান ভেসে উঠতে অন্তত আরও এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে পানির নিচে থাকা পাকা ও আধাপাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বর্তমানে হাওড়াঞ্চলের কৃষকরা দ্বিমুখী সংকটে রয়েছেন। অতিরিক্ত পানির কারণে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। আবার পানিতে নেমে কাজ করতে শ্রমিকদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। ফলে যারা কাজ করছেন, তাদের দ্বিগুণ মজুরি দিতে হচ্ছে, যা ধান কাটার খরচ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেখার হাওড়পাড়ের কৃষক রবিউল বলেন, 'এবার ফসল নিয়ে আমরা মহাবিপদে পড়েছি। আগে কাঁচা ও আধাপাকা ধান তলিয়েছে, এখন পাকা ধানও পানির নিচে। সামনে শুধু অন্ধকার দেখছি।'

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, এখন পর্যন্ত হাওড়ের ১৩ হাজার ৭৯ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়েছে এবং ২ হাজার ৪৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় মোট ৫১ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৩৭টি হাওড়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

তবে সরকারি এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন কৃষক ও কৃষক সংগঠনগুলো। সুনামগঞ্জ হাওড় ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনের দাবি, দোয়ারাবাজার ছাড়া জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, মোট ধানের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনো ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ধান পানির নিচে রয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, টানা দুই দিন বৃষ্টি কম থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার রোদ ওঠায় কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এই পরিস্থিতি স্থায়ী হবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এদিকে বোরো ধান কাটায় শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। জেলার সব বালুমহাল আগামী ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এসএম ইয়াসীর আরাফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বালু উত্তোলন ও পরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়।

প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে ধান কাটার শ্রমিক সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে আরও বড় কৃষি বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জৈন্তা বার্তা /ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: