সব হা*রানোর শ*ঙ্কায় চার গ্রামের মানুষ
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৫১ AM

আজমিরীগঞ্জে ভ*য়াবহ ন*দীভাঙন

সব হা*রানোর শ*ঙ্কায় চার গ্রামের মানুষ

আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬/০৭/২০২৬ ০১:১৬:৩০ AM

সব হা*রানোর শ*ঙ্কায় চার গ্রামের মানুষ

ছবি: জৈন্তা বার্তা


কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের নরজাকান্দা, উমেদনগর, সাহানগর ও রোদ্রনগর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। গত প্রায় দুই মাস ধরে ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর শুরু হওয়া ভাঙন পানি কমে গেলেও থামেনি। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। এতে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

সরেজমিনে নরজাকান্দা, উমেদনগর, সাহানগর ও রোদ্রনগর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নদীর তীরের বিশাল অংশ ধসে পড়ছে। ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ, গাছের ডালপালা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। তবে কুশিয়ারার প্রবল স্রোতের কাছে এসব উদ্যোগ কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে শুধু নরজাকান্দা গ্রামেই প্রায় দুই শতাধিক বসতঘর এবং অন্তত ৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে।

নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ হলেও নরজাকান্দা, উমেদনগর, সাহানগর ও রোদ্রনগর এলাকায় কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই নদী তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি গ্রাস করছে।

নরজাকান্দা গ্রামের পল্লীচিকিৎসক মৃণাল রায় জানান, তার বাড়ির অর্ধেক অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। অবশিষ্ট অংশও যে কোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

উমেদনগর গ্রামের হুমায়ুন মিয়া জানান, যেখানে এখন কুশিয়ারা নদীর প্রবাহ, সেখানেই একসময় তাদের বসতঘর ছিল। নদীভাঙনের কারণে কয়েক দফা বাড়ি সরিয়ে বর্তমানে প্রায় দুইশ হাত দূরে নতুন করে বসতি গড়তে হয়েছে। গ্রামের একটি মন্দিরও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রেজাউল করিম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুল রহমান জানান, কুশিয়ারা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৫ কিলোমিটার ২০০ মিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে পিরিজপুর ও পুটিয়াকান্দা এলাকায় কাজ শুরু হলেও নদীর অতিরিক্ত স্রোতের কারণে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাকাইলছেও ইউনিয়নের সাহানগর এলাকায় নদী প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন থেকে এ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম অনেকটাই সুরক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: