ছবি:সংগৃহীত
সিলেট নগরের দাড়িয়াপাড়ায় চৈতালী সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস ও তাঁর সহধর্মিণী। এ সময় তিনি বলেছেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি উৎসব নয়; এটি সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য মিলনমেলা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঐতিহ্যবাহী চৈতালী সংঘের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান অনিরুদ্ধ দাস। সেখানে পৌঁছালে তাঁকে ও তাঁর সহধর্মিণীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সংঘ ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বলেন, সিলেটের চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ তাঁকে অভিভূত করেছে। ভারত ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। এ ধরনের ধর্মীয় উৎসব দুই দেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে।
তিনি চৈতালী সংঘের বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং পূজামণ্ডপে আসা ভক্ত ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা কয়লা ও পাথর আমদানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক মো. আতিক হোসেন, সিলেট লায়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহের এবং লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট হলি সিটির সাবেক সভাপতি লায়ন সাজুওয়ান আহমদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চৈতালী সংঘের প্রধান উপদেষ্টা সুজিত দে, বিশেষ উপদেষ্টা গোবিন্দ রায় ও রতন বণিক, উপদেষ্টা উত্তম চৌধুরী ও নিহার রঞ্জন দাস বাচ্চু, সভাপতি অ্যাডভোকেট অশেষ কর, সহসভাপতি গৌতম বণিক ও মদন মোহন কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক চন্দন সাহা, সহসাধারণ সম্পাদক নির্মল রায় রাজা, অর্থ সম্পাদক পংকজ দাস, পূজা অর্চনা ও পরিচালনা উপপরিষদের আহ্বায়ক বিপ্রজীত দত্ত বিরাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক বিশাল রুদ্র সেন এবং প্রসাদ বিতরণ উপপরিষদের আহ্বায়ক কেশব সেনসহ অন্যরা।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে চৈতালী সংঘের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সাহার বাসভবনে এক চা-চক্রে মিলিত হন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার, তাঁর সহধর্মিণী ও অতিথিরা।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্যমতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
চৈতালী সংঘের নেতৃবৃন্দ জানান, তাঁদের লক্ষ্য শুধু দেবীর আরাধনা নয়; বরং সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করা। শুভানুধ্যায়ী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের আয়োজন সফল হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




