সংগৃহীত
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সরকারি ভর্তুকিতে চিকিৎসা নেওয়া ২৭৬ জন কিডনি রোগীর নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নতুন সরকারি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালু হতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে, মাঝের কয়েক মাস চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।বর্তমানে প্রতি সেশনে ৬২১ টাকায় ডায়ালাইসিস করানো গেলেও বেসরকারি হাসপাতালে একই সেবার জন্য খরচ হয় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। বিশেষ করে হেপাটাইটিস পজিটিভ ৯৫ জন রোগীর জন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অন্য কোনো সরকারি বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এ উদ্বেগ আরও বেশি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৪ মার্চ চমেক হাসপাতালের নিচতলায় ৩১টি মেশিন নিয়ে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোরের পরিচালনায় ডায়ালাইসিস সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে। বর্তমানে সেখানে ১৮১ জন হেপাটাইটিস নেগেটিভ ও ৯৫ জন পজিটিভ রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন। বাড়বে খরচ : স্যান্ডোর সেন্টারে প্রতি সেশনে ডায়ালাইসিসের জন্য একজন রোগীকে দিতে হয় ৬২১ টাকা। বাকি ২ হাজার ৭৭৬ টাকা ভর্তুকি দেয় সরকার। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে একই সেবা নিতে প্রতি সেশনে খরচ হয় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। কিডনি রোগীদের সপ্তাহে একাধিকবার ডায়ালাইসিস নিতে হয়। ফলে, ভর্তুকির সেবা বন্ধ হলে চিকিৎসার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এতে নিম্ন আয়ের অনেক রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে সপ্তাহে দুবার চমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিস নিতে আসেন ১৯ বছর বয়সী ওয়াজি তাফসির হেলালি। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এই কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভর্তুকির সেবা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার। একইভাবে দুই বছর ধরে ডায়ালাইসিস নেওয়া আট বছর বয়সী এক শিশুর অভিভাবক জানান, সপ্তাহে তিনবার বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করানোর ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
নতুন সরকারি কেন্দ্র চালুতে দেরি : চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) মাধ্যমে চমেক হাসপাতালে ৩১টি এবং ন্যাশনাল কিডনি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬০টি নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে নতুন মেশিন স্থাপন ও কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে, স্যান্ডোরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কেন্দ্র চালু হওয়া পর্যন্ত তিন থেকে চার মাসের সেবা বিরতির আশঙ্কা রয়েছে।চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানান, নতুন মেশিন সংগ্রহের কাজ চলছে। স্যান্ডোরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মধ্যবর্তী সময়ে রোগীদের সেবা কীভাবে সচল রাখা যায়, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় স্যান্ডোর : স্যান্ডোরের সহকারী ব্যবস্থাপক তায়েফ রহমান জানান, ২৯ নভেম্বরের পর কেন্দ্রটির পরিচালনা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তারা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি। তবে, ডায়ালাইসিসের মূল্য কমিয়ে নতুন করে সরকারের কাছে প্রস্তাব জমা দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও প্রকৌশলীসহ ৪৫ জন কর্মী কাজ করছেন। কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হলে রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি কর্মীদের কর্মসংস্থানও ঝুঁকিতে পড়বে।রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, নতুন সরকারি কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত স্যান্ডোরের মাধ্যমে বর্তমান সেবা চালু রাখার ব্যবস্থা করা হোক। তাদের আশঙ্কা, নিয়মিত ডায়ালাইসিস ব্যাহত হলে রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




