সংগৃহীত
মালদ্বীপে বিয়ের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে ক্রমাগত বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। দেশটির ২০২৬ সালের স্ট্যাটিস্টিক্যাল পকেটবুকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মালদ্বীপে ৫ হাজার ১৪৮টি বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।্র
একই বছর বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধিত হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৬টি, যা এই পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে মালদ্বীপে ৫ হাজার ৪১৪টি বিয়ে নিবন্ধিত হয়। ২০২২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৫৩টিতে। এরপর থেকে বিয়ের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৩ সালে ৫ হাজার ৩৭৩টি, ২০২৪ সালে ৫ হাজার ১৭০টি এবং ২০২৫ সালে ৫ হাজার ১৪৮টি বিয়ে নিবন্ধিত হয়।অন্যদিকে, বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা প্রতিবছরই বেড়েছে। ২০২১ সালে ৩ হাজার ২৪২টি বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধিত হলেও ২০২২ সালে তা বেড়ে ৩ হাজার ৩১১টিতে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৪০১টি, ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৪৬৪টি এবং ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৪৬টি বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধিত হয়।পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের পর থেকে বিয়ের সংখ্যা নিম্নমুখী হলেও বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
এই প্রবণতা দেশটির পারিবারিক সম্পর্ক ও দাম্পত্য জীবনের স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে।মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এমএনইউ) ন্যাশনাল জার্নাল অব রিসার্চ-এ ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিবাহবিচ্ছেদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।বৃহত্তর মালেতে বসবাসকারী ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালিত ওই গবেষণায় অপরিপক্বতা, পরকীয়া, দাম্পত্য জীবনে অসামঞ্জস্য, আর্থিক অস্থিতিশীলতা, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, ভুল কারণে বিয়ে, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারকে বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।গবেষণার তথ্য পর্যবেক্ষণে জানা যায়, দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি শুধু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আর্থিক অনিশ্চয়তা, বসবাসের পরিবেশ এবং পারিবারিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে মাথাপিছু বিবাহবিচ্ছেদের হার বিশ্বের সর্বোচ্চ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তুলনা করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অভিন্ন সংজ্ঞা ও হালনাগাদ পরিসংখ্যান যাচাই করা প্রয়োজন।বিয়ের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়তে থাকার এই প্রবণতা দেশটির সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ দম্পতিদের মধ্যে সম্পর্কের স্থায়িত্ব, আর্থিক সক্ষমতা, আবাসনসংকট এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় চিহ্নিত কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে দাম্পত্য-পূর্ব সচেতনতা, পারিবারিক পরামর্শসেবা এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা




