অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

বাহুবল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/১০/২০২৬ ১১:৪১:৪২ অপরাহ্ন

অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

ছবি:সংগৃহীত


বাড়ি নির্মাণের জন্য চারদিকে পাকা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা প্রায় ১৫ শতক জমি। বাড়ির কাজ শুরু না হওয়ায় জমিটি পতিত পড়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু কৃষকের উদ্যোগ, পরিশ্রম ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে সেই জমিতেই গড়ে উঠেছে তরমুজের ক্ষেত। মাচা তৈরি করে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে উন্নত জাতের তরমুজ। গাছে গাছে ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের ছোট-বড় অসংখ্য ফল।

এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে অসময়ে তরমুজ চাষ করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুস শহীদ। বাড়ি নির্মাণের আগে জমিটুকু কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই শুরু করেন তরমুজ চাষ। এখন তাঁর ক্ষেতের চার শতাধিক গাছে ঝুলছে হাজারের বেশি তরমুজ। কিছুদিনের মধ্যেই ফল বিক্রি শুরু করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে এ ক্ষেত থেকে লাখ টাকার বেশি বিক্রির প্রত্যাশা তাঁর।

আব্দুস শহীদের এই উদ্যোগ শুধু তাঁর নিজের আয়ের সম্ভাবনাই তৈরি করেনি, আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও নতুন জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সীমিত জায়গা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে কীভাবে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করা যায়, তাঁর ক্ষেত যেন তারই উদাহরণ।

কামারগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১৫ শতক জমির চারপাশে পাকা প্রাচীর। এর ভেতরে মাচা তৈরি করে চাষ করা হয়েছে ইউনাইটেড কোম্পানির ‘মধুমালা’ ও ‘ব্ল্যাকবেবি’ জাতের তরমুজ। ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় মালচিং পেপার প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এ চাষ করা হয়েছে। অল্প জায়গায় সুশৃঙ্খলভাবে বেড়ে ওঠা গাছগুলোর পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে বিভিন্ন আকারের হলুদ ও কালো রঙের তরমুজ।

কৃষক আব্দুস শহীদ জানান, বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমির চারপাশে পাকা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন তিনি। বাড়ির কাজ শুরুর আগ পর্যন্ত জমিটি পতিত পড়ে থাকার কথা ছিল। এ সময় মাঠ পরিদর্শনে এসে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম তাঁকে জমিটি ফেলে না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দেন। তাঁর পরামর্শে আগ্রহী হয়ে উন্নত জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন আব্দুস শহীদ।

তিনি বলেন, ‘বাড়ি নির্মাণের আগে জমিটা যেন পতিত পড়ে না থাকে, সেই চিন্তা থেকেই তরমুজ চাষ শুরু করি। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অল্প জায়গায় মাচা তৈরি করে তরমুজ লাগিয়েছি। চাষাবাদে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন গাছে গাছে প্রচুর তরমুজ। ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি তরমুজ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই বিক্রি শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। ফলন ভালো থাকলে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতে পারে।’

তিনি আরও জানান, অসময়ে তরমুজ চাষ করেও ভালো ফলন পেয়েছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। নিজের উদ্যোগে এমন ফলন পেয়ে তিনি আশাবাদী। তরমুজ বিক্রি করে ভালো আয় হলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে নতুন পরিকল্পনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তিনি।

আব্দুস শহীদের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কয়েকজন কৃষক জানান, অল্প জায়গায় তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের উৎসাহিত করেছে। তাঁর কাছ থেকে এ জাতের তরমুজ চাষ সম্পর্কে পরামর্শও নিয়েছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে নিজেরাও একই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা করছেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে এলাকায় কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বাড়ির আশপাশের অব্যবহৃত জমি, পতিত জায়গা কিংবা সীমিত কৃষিজমি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম বলেন, “কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। মাঠে গিয়ে তাঁদের পরামর্শ দিতে পারলে আনন্দ পাই। মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে আব্দুস শহীদকে জমি পতিত না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দিয়েছিলাম। তিনি সেই পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতে পারত। তারপরও অসময়ে তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। তাঁর ক্ষেত দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকে এ জাতের তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে ভবিষ্যতে এ ধরনের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’

বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, ‘কৃষকদের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক কৃষক নতুন নতুন ফসল চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন। আব্দুস শহীদ তাঁদেরই একজন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ